Monday, 26 September 2016

ঈমান ধ্বংসকারী সাতটি বিষয়

“আবু হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সাঃ) বলেছেনঃ ঈমান ধ্বংসকারী সাতটি বিষয় থেকে বেঁচে থাক। সাহাবাগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! সেই বিষয়গুলি কি? তিনি বললেনঃ (১) আল্লাহর সাথে শিরক করা, (২) জাদু করা, (৩) আল্লাহর যথার্থ কারণ ব্যতিত যাকে হত্যা করা নিষিদ্ধ করেছেন তাকে হত্যা করা, (৪) সুদ খাওয়া, (৫) (অন্যায়ভাবে) ইয়াতীমের সম্পদ খাওয়া, (৬) যুদ্ধ চলাকালে জিহাদের ময়দান থেকে পলায়ন করা, (৭) সতী-সাধ্বী মুসলিম রমনীর উপর ব্যভিচারের মিথ্যারোপ করা, যে কখনও তা কল্পনাও করে না।” [বুখারীঃ ২৭৬৬]

ক্রোধ থেকে বেঁচে থাকা
“আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ রাসুল (সাঃ) বলেছেন- ‘প্রকৃত বীর সে নয়, যে কাউকে কুস্তীতে হারিয়ে দেয়। বরং সেই প্রকৃত বাহাদুর, যে ক্রোধের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম।” [বুখারীঃ ৫৬৮৪ ইঃফাঃ]
“আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ এক ব্যক্তি নবী (সাঃ) এর নিকট গিয়ে বলল- আপনি আমাকে অসিয়ত করুন। তিনি বললেন -‘তুমি রাগ কর না।’ লোকটি কয়েকবার আরও অন্য অসিয়ত করতে বললে নবী (সাঃ) প্রত্যেকবারই বললেনঃ ‘রাগ করো না।” [বুখারীঃ ৫৬৮৬ ইঃফাঃ]
“সুলায়মান ইবনে সুরদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ একবার নবী (সাঃ) এর সামনেই দু’ব্যক্তি গালাগালী করছিল। আমরাও তাঁর কাছেই বসে ছিলাম, তাদের একজন অপর জনকে এত রাগান্বিত হয়ে গালি দিচ্ছিল যে, তার চেহারা লাল হয়ে গিয়েছিল। তখন নবী (সাঃ) বললেনঃ আমি একটি কালেমা জানি, যদি এ লোকটি তা পড়ত, তাহলে তার ক্রোধ চলে যেত।’ অর্থাৎ লোকটি যদি ‘আউযু বিলাহি মিনাশশাইত্বানির রাজীম’ পড়ত।” [বুখারী ৫৬৮৫ ইঃফাঃ]
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
“যুহাইর ইবনে হরব ও শায়বান ইবনে আবী শায়বাহ আনাস রা: থেক রেওয়ায়েত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)বলেছেনঃ
কোন বান্দা সে পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না, যে পর্যন্ত না আমি তার নিকট তার পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ ও অন্যান্ন সব লোকের তুলনায় অধিক প্রিয় হব।“(মুসলিম-ঈমান পর্ব:৭৪)
::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
রাসুলুল্লাহ (সা: ) বলেছেন:
মুসলিম সেই, যার হাত ও জিহবা হতে অপর মুসলমান নিরাপদ (Muslim :: Book 1 : Hadith 65 )
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রতি এবং পরকলের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার উচিত উত্তম কথা বলা অথবা মৌনাবলম্বন করা।
আর যে ব্যাক্তি আল্লাহর প্রতি ও পরকলের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার উচিত প্রতিবেশীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।
যে ব্যাক্তি আল্লাহপাক ও পরকলের প্রতি বিশ্বাস রাখে, তার উচিত মেহমানের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। (মুসলিম:৭৯)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
যুহাইর ইবনে হরব (রঃ) আবু যর (রাঃ) থেকে রেওয়ায়েত করেছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছেন,
যে ব্যাক্তি জেনে শুনে নিজের পিতার পরিবর্তে অন্য কাকেও পিতা বলে, সে কুফরী করল। আর যে ব্যাক্তি এমন কোন কিছুর দাবী করে, যা তার নয়, সে আমার দলের নয় এবং সে যেন তার ঠিকানা দোযখ বানিয়ে নেয়। আর যে কেউ কাকেও কাফির বলে সম্বোধন করলে বা আল্লাহর শত্রু বলে ডাকলে সম্বোধনকৃত ব্যাক্তি যদি তদ্রুপ না হয়, তাহলে ঐ কুফরী, সম্বোধনকারীর প্রতি প্রত্যাবর্তীত হবে।(মুসলিম: ১২১)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন:
মুসলমানকে গালমন্দ করা গুনাহর কাজ এবং তার সাথে মারপিট করা কুফরী। (মুসলিম:১২৫)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ (সঃ)বলেছেনঃ
সাবধান! মন্দ ধারণা হতে দূরে থাক।কেননা মন্দ ধারণা অনুমান সবচেয়ে বড় মিথ্যা। (বুখারী ও মুসলিম, রিয়াদুস সালেহীন-১৫৭৪)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা) থেকে একটা হাদীস বর্ণিত হয়েছে- তিনি বলেন, একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাআদ (রাঃ)- এর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি ওযু করছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “হে সাআদ অপচয় করছো কেন! সাআদ বললেন, ওযুতে কি অপচয় হয়? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, প্রবাহমান নদীতে বসেও যদি তুমি অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করো- তা অপচয়”। (ইবনে মাজাহ)।
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
আবু হুরাইরাহ (রাযি) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সা বলেছেন, কোন লোকের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেস্ট যে, সে যা শুনে (খোঁজখবর নেয়া ছাড়াই) তাই বলে বেড়ায়। (মুসলিম ৫) -মিশকাত তাহক্কীক আলবানী হা/১৫৬
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
আবু যর রা: থেকে রেওয়ায়েত করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)বলেছেনঃ
তিন ব্যাক্তির সাথে রোজ কিয়ামতে আল্লাহ পাক কথা বলবেন না । তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করবেন না। তাদের কে পবিত্র করবেন না । আর তদের জন্য রয়েছে ভীষন আযাব। রেওয়ায়েতকারী বলেন তিনি এ আয়াতটি তিনবার পড়লেন । আবু যর রা: বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সঃ), তারা কারা? তিনি বললেন, তারা হল:
যে ব্যাক্তি টাখনুর নিচে কাপড় ঝুলিয়ে পড়ে , যে ব্যাক্তি দান করে খোটা দেয় এবং যে ব্যাক্তি মিথ্যা শপথ করে মাল বিক্রি করে। (মুসলিম-ঈমান পর্ব:১৯৫)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
আল্লাহ বলেন,”আর যখন তোমাদের সালাম করা হয়, তখন তোমরাও তা অপেক্ষা উত্তম উত্তর দিবে অথবা কমপক্ষে তার সমপরিমান দিবে, নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয়ে হিসাব গ্রহণ কারী।” (সূরা নিসাঃ আয়াত:86)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন সংবাদ আনয়ন করে, তবে তোমরা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতিসাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে অনুতপ্ত না হও।(Sura Hujurat:7)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
* নবী করিম (সাঃ) বলেছেনঃ “ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত ছেড়ে দেয়া।” (মুসলিম হাঃ ১৫৪)* রুরাইদা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “আমাদের এবং কাফিরদের মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত, অতএব যে সালাত ছেড়ে দিল সে কুফরী করল।” (নাসাঈ, ই.সে. হাঃ৪৬৪)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
হযরত আবু হোরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত , রাসূলুল্লাহ (সঃ)বলেছেনঃ সাবধান! মন্দ ধারণা হতে দূরে থাক। কেননা মন্দ ধারণা অনুমান সবচেয়ে বড় মিথ্যা। (বুখারী ও মুসলিম, রিয়াদুস সালেহীন-১৫৭৪)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
রাসুলুল্লাহ (সা: ) বলেছেন:
বনি আদমের উপর ব্যভিচারের অংশ লিখিত রয়েছে, তা অবশ্যই সে পাবে । দুই চোখের ব্যভিচার হল দৃষ্টিপাত করা । দুই কানের ব্যভিচার হল শ্রবন করা। জিহবার ব্যভিচার হল বলাবলি করা। হাতের ব্যভিচার হল ধরা বা স্পর্শ করা । পায়ের ব্যভিচার হল হেটে যাওয়া । অন্তরের ব্যভিচার হল কামনা ও বাসনা করা। আর গুপ্তাঙ্গ তা বাস্তবায়িত বা অবাস্তব প্রতিপন্ন করে।(মুসলিম অনুবাদ: হাদিস:৬৫১৫)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
“কাতার সোজা করো, কাঁধের সাথে কাঁধ বরাবর করো, ফাঁক বন্ধ করো, শয়তানের জন্য কোন ফাঁক রাখবে না। যে ব্যক্তি কাতারের সংযোগ স্থাপন করে আল্লাহও তার সাথে সংযোগ স্থাপন করেন, আর যে কাতার ছিন্ন করে, আল্লাহও তার সাথে সংযোগ ছিন্ন করেন।” (আবু দাউদ, প্রগুক্ত, কিতাবুস সালাত, বাব নং ৯৫, হাদীস নং ৬৬৬, ১/১৭৮)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
“এক মুসলিম আর একজন মুসলিম এর ভাই । সে তার উপর জুলুম করে না, এবং তাকে শত্রুর হাতে সমর্পনও করে না । এবং যে তার ভাইয়ের অভাব মিটিয়ে দিবে, আল্লাহপাক তার অভাব পূরণ করে দিবেন । এবং যে ব্যাক্তি, কোন মুসলিমের বিপদ দুর করবে, আল্লাহপাক তার বিনিময়ে কেয়ামতের দিন তাকে বিপদ থেকে মুক্ত করবেন । যে ব্যাক্তি, মুসলমানের দোষত্রুটি গোপন রাখবে, আল্লাহপাক রোজ কিয়ামতে তার দোষত্রুটি গোপন রাখবেন “(মুসলিম অনুবাদ বইয়ের : হাদীস ৬৩৪৪)
:::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::
‎”

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)






উম্মুল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত। হারিস ইবনু হিশাম (রাঃ) আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট ওয়াহী কিরূপে আসে?’ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ [কোন কোন সময় তা ঘণ্টা বাজার মত আমার নিকট আসে। আর এটি-ই আমার উপর সবচেয়ে বেদনাদায়ক হয় এবং তা শেষ হতেই মালাক (ফেরেশতা) যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নেই, আবার কখনো মালাক মানুষের রূপ ধারণ করে আমার সাথে কথা বলেন। তিনি যা বলেন আমি তা মুখস্থ করে নেই।] ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, আমি তীব্র শীতের সময় ওয়াহী নাযিলরত অবস্থায় তাঁকে দেখেছি। ওয়াহী শেষ হলেই তাঁর ললাট হতে ঘাম ঝরে পড়ত। (৩২১৫; মুসলিম ৪৩/২৩, হাঃ ২৩৩৩, আহমাদ ২৫৩০৭, ২৬২৫৮) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ২)


হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
বর্ণনাকারী রাবীঃ আয়িশা (রাঃ)

Sunday, 25 September 2016

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর ওয়াহ্‌য়ীর সূচনা হয় ভালো স্বপ্নের মাধ্যমে

৬৫১১। ইয়াহ্ইয়া ইবনু বুকায়র ও আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ... আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ওহীর সূচনা হয় ঘুমের ঘোরে ভালো স্বপ্নের মাধ্যমে। তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা ভোরের আলোর ন্যায় উদ্ভাসিত হয়ে প্রতিফলিত হতো। তিনি হেরা গুহায় গমন করে সেখানে বেশ কয়েক রাত ইবাদতে কাটিয়ে দিতেন এবং এজন্য খাদ্য সামগ্রী ও সাথে নিয়ে যেতেন। এরপর খাদীজা (রাঃ) এর কাছে ফিরে আসতেন এবং তিনি তাকে অনুরূপ খাদ্য সামগ্রী প্রস্তুত করে দিতেন। অবশেষে তাঁর কাছে সত্যের বাণী (ওহী) আসল। আর এ সময় তিনি হেরা গুহায় ছিলেন। সেখানে ফেরেশতা এসে তাঁকে বলল, আপনি পড়ুন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি বললামঃ আমি তো পাঠক নই। তখন তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে শক্ত করে চাপ দিলেন। এমনকি এতে আমার খুব কষ্ট হল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিলেন এবং বললেন, আপনি পড়ুন। আমি বললাম, আমি পাঠক নই। তিনি দ্বিতীয়বার আমাকে শক্ত করে চাপ দিলেন। এবারেও এতে আমার খুব কষ্ট হল। অতঃপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, আপনি পড়ুন। আমি বললাম, আমি তো পাঠক নই। এরপর তিনি তৃতীয়বার আমাকে শক্ত করে এমন চাপ দিলেন যে, এবারেও এতে আমার খুব কষ্ট হল। তারপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন, পাঠ করুন, আপনার প্রতিপালকের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন ...... যা সে জানত না (৯৪ঃ ১-৫) এ আয়াত পর্যন্ত।
এরপর তিনি তা নিয়ে খাদীজা (রাঃ) এর কাছে কম্পিত হৃদয়ে ফিরে এলনে। আর বললেন, আমাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দাও। আমাকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দাও। ফলে তাঁরা তাঁকে কম্বল দিয়ে ঢেকে দিলেন। অবশেষে তাঁর থেকে ভীতি দূর হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন, হে খাদীজা! আমার কি হল? এবং তাকে সমূহ ঘটনা জানালেন। আর বললেনঃ আমি আমার জীবন সম্পর্কে শংকাবোধ করছি। খাদীজা (রাঃ) তাকে বললেন, কখনই না। আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহর কসম! আল্লাহ্ আপনাকে কখনই লাঞ্ছিত করবেন না। কেননা, আপনি তো আত্মীয়তার বন্ধন জুড়ে রাখেন, সত্য কথা বলেন, অনাথ অক্ষমদের বোঝা বহন করেন, মেহমানদের মেহমানাদী করেন এবং হকের পথে আগত যাবতীয় বিপদে সাহায্য করেন। অতঃপর খাদীজা (রাঃ) তাঁকে নিয়ে চললেন।
অতঃপর তাঁকে নিয়ে ওরাকা ইবনু নাওফল ইবনু আসাদ ইবনু আবদুল উয়াবা ইবনু কুসাই এর কাছে এলেন। আর তিনি খাদীজা (রাঃ) এর চাচার পুত্র (চাচাত ভাই) এবং তার পিতার পক্ষ থেকে চাচাও ছিলেন। তিনি জাহিলিয়াতের যুগে খৃষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি আরবী কিতাব লিখতেন। তিনি ইঞ্জিল আরবীতে ভাষান্তর করেছেন। যতখানি লেখা আল্লাহর মনযুর হত। তিনি ছিলেন অতি বৃদ্ধ, দৃষ্টিশক্তিহীন ব্যাক্তি। খাদীজা (রাঃ) তাকে বললেন, হে আমার চাচাতো ভাই! তোমার ভাতিজার কথা শুন। তখন ওরাকা বললেন, হে ভাতিজা! তুমি কি দেখেছ? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা কিছু দেখেছিলেন তা তাকে অবহিত করেলেন। তখন ওরাকা বললেন, এই তো আল্লাহর সেই নামুস (দূত) যাকে মূসা আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল। হায় আফসোস! যদি সেদিন আমি জীবিত থাকতে পারতাম যে দিন তোমার কাওম তোমাকে বের করে দেবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তারা কি আমাকে বের করে দেবে? ওরাকা বললেন, হ্যাঁ, তুমি যা নিয়ে এসেছ, এমন বস্তু নিয়ে কোন দিনই কেউ আসেনি যার সাথে শত্রুতা করা হয়নি। যদি তোমার জীবনকালে আমাকে পায় তাহলে আমি পরিপূর্ণরূপে তোমাকে সাহায্য করব।
এরপর কিছু দিনের মধ্যেই ওরাকার মৃত্যু হয়। আর কিছু দিনের জন্য ওহীও বন্ধ থাকে। এমনকি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অবস্থার প্রেক্ষিতে অত্যন্ত চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এমনকি আমার এ সম্পর্কে তার থেকে জানতে পেরেছি যে, তিনি পাহাড়ের চূড়া থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে একাধিকবার দ্রুত সেখানে চলে গেছেন। যখন নিজেকে নিক্ষেপ করার জন্য পাহাড়ের চূড়া পৌঁছতেন, তখনই জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে বলতেন হে মুহাম্মদ! নিঃসন্দেহে আপনি তো আল্লাহর রাসূল! এতে তাঁর অস্থিরতা প্রশমিত হত এবং নিজে মনে শান্তিবোধ করতেন। তাই সেখান থেকে ফিরে আসতেন। ওহী বন্ধ অবস্থা যখন তাঁর উপর দীর্ঘায়িত হয় তখনই তিনি অনরূপ উদ্দেশ্যে দ্রুত চলে যেতেন। যখনই তিনি পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছতেন, তখনই জিবরীল (আলাইহিস সালাম) তাঁর সামনে আত্মপ্রকাশ করে পূর্বের ন্যায় বলতেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‏فَالِقُ الإِصْبَاحِ‏ দিনের বেলায় সূর্যের আলো ও রাতের বেলায় চাঁদের আলো।


গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইফাঃ)

পরিচ্ছদঃ ১/ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি কিভাবে ওহী শুরু হয়েছিল

১। হুমায়দী (রহঃ) আলকামা ইবনু ওয়াক্কাস আল-লায়সী (রহঃ) থেকে বর্ণিত, আমি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-কে মিম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছিঃ আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছিঃ প্রত্যেক কাজ নিয়তের সাথে সম্পর্কিত। আর মানুষ তার নিয়ত অনুযায়ী ফল পাবে। তাই যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের অথবা নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে- সেই উদ্দেশ্যেই হবে তার হিজরতের প্রাপ্য।

তাহক্বীক: মারফু হাদিস।
তাখরীজ : বুখারীঃ তাওহীদ.পাবলিকেশান্স ১, ৫৪, ২৫২৯, ৩৮৯৮, ৫০৭০, ৬৬৮৯, ৬৯৫৩; মুসলিমঃ ৫০৩৬; আবূ দাউদঃ ২২০৩; তিরমিযীঃ ১৭৪৮; দারাকুতনীঃ ১৩৪; নাসাঈঃ ৭৫, ৩৪৫০, ৩৮১০; আহমাদঃ ১৭০, ৩০৭। মুসলিম ২৩/৪৫ হা: ১৯০৭ , (আধুনিক প্রকাশনী. ১ , ইসলামিক ফাউন্ডেশন. ১)

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
বর্ণনাকারী রাবীঃ উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)